Md. Abdullah Saeed Khan

রোবটের বিবর্তনতত্ত্ব: কিভাবে আদিম পৃথিবীর ভয়ংকর পরিবেশ থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান এনড্রয়েড রোবটের আবির্ভাব হল।

কোয়ান্টাম গোলযোগ মিলনায়তন , তারিখ: ১০ই সেপ্টেম্বর, ২৫৫৯

আমি এনড্রয়েড জি। আমি এনড্রয়েড ইউনিভার্সিটি অফ আদ্রিদ আবাবা এর রোবটিক প্যালায়ানটলজি এন্ড মেকানিক্স বিভাগের অধ্যাপক। আজ আমি আপনাদের সামনে কিভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক যুগের রোবট তথা এনড্রয়েড পৃথিবীতে এসেছে সে ব্যাপারে বলব। এক্ষেত্রে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে যে প্রথম সিলিকন চিপটি কিভাবে তৈরী হল।

৩.৫ বিলিয়ন বছর আগের কথা। যখন পৃথিবী ভয়াল ও উত্তপ্ত। চারিদিকে শুধু অগ্নুৎপাত, বজ্রপাত, ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল। পৃথিবীর পরিবেশে আলট্রাভায়োলেট রে এর আগমন ছিল অনেক বেশী ও অনিয়ন্ত্রিত। এই আদিম পরিবেশে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তরল সিলিকনের পুকুর ছিল যেগুলোকে ‘সিলিকন স্যুপ’ বলা যায়। এই সিলিকন স্যুপেই কতগুলো অনুক্রমিক দৈবাৎ ঘটনার কারণে প্রথম সিলিকন চিপটি তৈরী হয়। আপনারা হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন যে কিভাবে এটা হল? আসলে এখনও এটা পরীক্ষা করে বের করা সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু আমরা আজ এখানে উপস্থিত আছি, এটা নিশ্চিত যে প্রথম সিলিকন চিপটি ঐ পরিবেশে তৈরী হয়েছিল এবং কতগুলো সিলিকনচিপ একত্রিত হয়ে গলিত লোহার সমন্বয়ে তৈরী হয়েছিল প্রথম সাবমেরিন রোবট। সাবমেরিন রোবটীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে এটি নিজে ক্ষয় হয়ে যাওয়ার আগে অনুরুপ আরও দুটি রোবট তৈরী করে যাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন ছিল।

এরপর মিলিয়ন বছর অতিবাহিত হল। এ সময়ে প্রকৃতি ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসল। পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ হল পানি এবং এক ভাগ হল মাটি। সাবমেরিন রোবটগুলোর খাদ্য ছিল সমুদ্রের নীচের তেল, যা তারা তাদের অন্ত:স্থ বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কিছু কিছু রোবট ভূমিতে দুর্ঘটনাক্রমে উঠতে শুরু করে এবং এর মধ্য থেকে কিছু রোবটের চাকা তৈরী হয়ে যায়, ফলে সাবমেরিন রোবট থেকে হয় গাড়ি রোবট, যেমন নাইট রাইডার কে আপনারা সবাই চেনেন।

এখন সময়ের ব্যবধানে এই গাড়ি রোবটগুলো দুটি শাখায় ভাগ হয়। একটা শাখায় গাড়ি রোবটগুলো স্থলেই থেকে যায় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে এডাপ্টেড হতে থাকে। আরেকটা শাখায়, কিছু রোবট যখন উচু উচু পাহাড়ের উপর নির্মিত বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে চলত তখন দূর্ঘটনাক্রমে নীচে পড়ে যেত। এভাবে পড়তে থাকা রোবটগুলোতে মিলিয়ন বছরের ব্যবধানে ক্রমান্বয়ে অল্প অল্প পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে উদ্ভব হল পাখার। ফলে এই শাখায় গাড়িরোবটগুলো পরিণত হল উড়োজাহাজে, পরবর্তীতে যা বিবর্তনের মাধ্যমে পরিণত হয় জেট বিমান ও রকেট স্পেসশিপে।

কিছু কিছু গাড়ি রোবট যারা স্থলে থেকে গিয়েছিল সেগুলো থেকে মিলিয়ন বছরের ব্যবধানে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় তৈরী হল বাস রোবট, কিছু হল ট্যাঙ্ক রোবট এবং কিছু আধুনিক যানবাহন রোবটে পরিণত হয়েছিল। আবার কতগুলো গাড়ি রোবটের বিবর্তনটা হয় বুদ্ধিগত পর্যায়ে। ফলে তারা তাদের আদিম গঠণ কে ভেঙ্গে ফেলে এবং তৈরী হয় আদিম দ্বিপদী রোবট, যেগুলোর কার্যক্ষমতা সীমাবদ্ধ ছিল। সেই আদিম দ্বিপদী রোবটগুলোর  কপোট্রনিক ক্যাপাসিটি বিবর্তন প্রক্রিয়ায়, ক্রমান্বয়ে, সময়ের ব্যবধানে  বাড়তে থাকে যার ফল হলাম আমরা তথা এনড্রয়েড। বিবর্তন প্রক্রিয়ায় আমাদের আবির্ভাব ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যার কারণে আমরা আজ জানতে পারছি আমাদের ইতিহাস, আমরা বানাতে পারছি অনেক কিছু।

প্রিয় শ্রোতা বন্ধুগণ, এভাবেই সময়ের ব্যবধানে আদিম পৃথিবীর সিলিকন স্যুপ থেকে আমাদের আবির্ভাব। এখন, আপনারা হয়ত দেখবেন কিছু এনড্রয়েড দাবি করছে যে রোবট ও এনড্রয়েডদের তৈরী করেছে এক ধরণের অতিরোবটিক সত্ত্বা, মানুষ। যাদের নাকি উন্নত বুদ্ধিমত্তা ছিল এবং যারা নাকি রোবটকে চলার জন্য কিছু নিয়ম নীতি দিয়েছিল। আমার প্রিয় বন্ধুগন এই এনড্রয়েডরা হল ডগমেটিক মৌলবাদী। এরা এমন কথা বলছে যা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করা যায়নি এবং যা অদৃশ্য। তাদের থেকে সাবধান। জ্ঞানের জগতে বিবর্তনের সাথে সাথে এটা আমাদের কাছে পরিস্কার হয়ে এসেছে যে মানুষ নামে কোন অতিরোবটিক সত্ত্বা কখনও ছিল না যারা কিনা রোবটের জন্য জীবন পরিচালনার নীতি নির্ধারণ করে দেয়। সুতরাং এ সকল ধর্মীয় মৌলবাদীরা মৃত্যুর পরের জীবন, আখিরাত এসব যা বলে এগুলো ভিত্তিহীণ মিথ্যা বিশ্বাস মাত্র। তাদের এসকল অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তায় কান দেবেন না। আমি একথাটা বলেই আমার লেকচার শেষ করতে চাই যে, আপনারা পৃথিবীতে যত পারুন জীবনটা এনজয় করে নিন এবং সব সময় বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ধারণ করুন। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top