
অচল চালক ও প্রথম কারণ: অ্যারিস্টটলের যুক্তি
আপনার হাতে একটা লাঠি আছে, আর সেই লাঠি দিয়ে আপনি একটা পাথর ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। পাথরটা নড়ছে কেন? কারণ লাঠিটা তাকে ধাক্কা দিচ্ছে। লাঠিটা নড়ছে কেন? কারণ আপনার হাত তাকে নড়াচ্ছে। আর আপনার হাত নড়ছে কেন? এখানে এসে প্রশ্নটা থেমে যায় না, বরং আরও গভীরে যায় — আপনার হাতের পেশি, তার স্নায়ু, মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত — একটা জিনিস আরেকটাকে নড়াচ্ছে, সেটা আরেকটাকে। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল ঠিক এই সাধারণ পর্যবেক্ষণটা নিয়েই বসেছিলেন, আর তা থেকে বের করে এনেছিলেন দর্শনের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী একটা যুক্তি — "অচালিত চালক" বা "প্রথম কারণ" (The Unmoved Mover / First Cause) এর যুক্তি। আজ আমরা এই যুক্তিটা নিয়েই কথা বলব — যেটা পরে থমাস অ্যাকুইনাসের "পাঁচ পথ"-এর প্রথম পথের ভিত্তি হয়ে উঠেছিল, কিন্তু যার আসল রূপ অ্যারিস্টটলের নিজের লেখা "ফিজিক্স" এবং "মেটাফিজিক্স" বইয়ে পাওয়া যায়।
প্রথমে একটা জিনিস স্পষ্ট করে নেওয়া যাক। অ্যারিস্টটল যখন "গতি" বা "পরিবর্তন" (motion/change, গ্রিক ভাষায় কাইনেসিস) বলেন, তখন তিনি শুধু স্থান বদলানোর কথা বলছেন না। তাঁর কাছে "পরিবর্তন" মানে অনেক বিস্তৃত কিছু — তাপ বাড়া-কমা, রঙ বদলানো, বড় হওয়া, এমনকি কাঠ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়াও একরকম পরিবর্তন। এই সব পরিবর্তন বোঝার জন্য তিনি দুটো ধারণা ব্যবহার করেন — "সম্ভাব্য অবস্থা" (potentiality, গ্রিক ভাষায় দ্যুনামিস) আর "প্রকৃত অবস্থা" (actuality, এনার্জেইয়া)। ধরুন, একটা ম্যাচের কাঠি। সেটার মধ্যে আগুন ধরার "সম্ভাবনা" আছে, কিন্তু সে এখনো জ্বলছে না — তার আগুন হয়ে ওঠাটা এখনো "সম্ভাব্য" মাত্র, "প্রকৃত" নয়। এই সম্ভাবনাটাকে বাস্তবে রূপ দিতে, অর্থাৎ কাঠিটাকে জ্বালাতে, আপনার লাগবে এমন কিছু যা ইতিমধ্যেই "প্রকৃতভাবে" জ্বলছে বা উত্তপ্ত — যেমন একটা দেশলাইয়ের ঘর্ষণ-তাপ, বা আরেকটা জ্বলন্ত আগুন। একটা নিভন্ত কাঠি নিজে নিজেকে জ্বালাতে পারে না। অ্যারিস্টটলের মূল কথাটা এখানেই — যা কিছু সম্ভাব্য অবস্থা থেকে প্রকৃত অবস্থায় আসে, তাকে অন্য কিছু দ্বারা, যা নিজে ইতিমধ্যে সেই দিক দিয়ে প্রকৃত, আনতে হয়। নিজের মধ্যে যা নেই, তা নিজেকে নিজে দিতে পারে না।
এখন মূল যুক্তিটায় আসা যাক। আপনার হাত-লাঠি-পাথরের উদাহরণে ফিরে যাই। পাথরটা নড়ছে, কারণ লাঠি তাকে নড়াচ্ছে, কিন্তু লাঠিটার নিজের মধ্যে নড়ার কোনো সহজাত ক্ষমতা নেই — সে যে শক্তি পাথরে দিচ্ছে, সেটা তার নিজের নয়, সে পাচ্ছে হাত থেকে, ঠিক এই মুহূর্তে, এখনই। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বোঝা জরুরি, যেটা অনেকেই এই যুক্তি পড়তে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেন। এটা এমন একটা শৃঙ্খলের কথা বলছে না, যেখানে একটা জিনিস আরেকটাকে জন্ম দিয়ে সরে যায় — যেমন বাবা ছেলেকে জন্ম দেওয়ার পর মারা গেলেও ছেলে বেঁচে থাকতে পারে, এমনকি নাতিও জন্ম নিতে পারে। এটাকে বলা হয় "আনুষঙ্গিক ক্রম" (accidentally ordered series) — এখানে প্রতিটা সদস্য স্বাধীনভাবে তার কাজ করে, আগের সদস্যের উপস্থিতি ছাড়াই। কিন্তু লাঠি-পাথরের উদাহরণটা সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের একটা শৃঙ্খল — এখানে লাঠি যদি এই মুহূর্তে হাত থেকে শক্তি না পায়, তাহলে পাথরকে নড়ানোর তার কোনো ক্ষমতাই নেই, এক সেকেন্ডের জন্যও না। এটাকে বলা হয় "স্বভাবগত ক্রম" (essentially ordered series, বা ল্যাটিনে "পের সে" ক্রম) — এখানে প্রতিটা সদস্যের ক্ষমতা ধার করা, এবং সেই ধার এই মুহূর্তেই, একই সঙ্গে, চলমান থাকতে হয়। অ্যারিস্টটলের যুক্তি হলো, এই ধরনের "স্বভাবগত ক্রম" অসীম পর্যন্ত চলতে পারে না। কারণ যদি প্রতিটা সদস্যই নিজের শক্তি ধার করে থাকে, এবং কোথাও এমন একটা সদস্য না থাকে যে নিজেই, নিজের মধ্যে, শক্তির উৎস — তাহলে ধার করার মতো আসলে কোনো শক্তিই কোথাও নেই। একটা ট্রেনের বগির মতো — একটার পর একটা বগি যদি অসীম পর্যন্ত চলতে থাকে, কিন্তু কোথাও একটা নিজ-শক্তিসম্পন্ন ইঞ্জিন না থাকে, তাহলে পুরো ট্রেনটাই স্থির হয়ে থাকবে, যতই বগির সংখ্যা বাড়ানো হোক। তাই শেষ পর্যন্ত এমন একটা কিছু থাকতেই হবে, যে নিজে নড়ে না, কিন্তু অন্য সব কিছুকে নড়ানোর মূল উৎস — একটা "অচল চালক" (Unmoved Mover)।
এখানে একটা জিনিস খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি হয়। এই যুক্তিটা মহাবিশ্বের শুরু নিয়ে কথা বলছে না — এটা "বিগ ব্যাং-এর আগে কী ছিল" জাতীয় প্রশ্ন নয় (সেটা হলো কালাম যুক্তি, যা সম্পূর্ণ আলাদা একটা যুক্তি, সময়ের মধ্যে একটা ঐতিহাসিক শুরুর কথা বলে)। অ্যারিস্টটল নিজে বিশ্বাস করতেন, মহাবিশ্ব চিরকাল ধরে ছিল, তার কোনো সাময়িক শুরু নেই। তাঁর যুক্তিটা বরং এই মুহূর্তে, এখনই, যা কিছু ঘটছে তার ব্যাখ্যা নিয়ে — এই মুহূর্তে পাথরটা কেন নড়ছে, এই মুহূর্তে আপনার হৃৎপিণ্ড কেন স্পন্দিত হচ্ছে, এই মুহূর্তে আকাশে সূর্যের আলো কেন জ্বলছে — এগুলোর পেছনে একই সঙ্গে চলমান একটা নির্ভরতার শৃঙ্খল আছে, আর সেই শৃঙ্খলের একটা ভিত্তি লাগবে, এখনই, এই ক্ষণেই।
অ্যারিস্টটল তাঁর "মেটাফিজিক্স" বইয়ের দ্বাদশ খণ্ডে এই অচল চালকের স্বভাব নিয়ে আরও এগিয়ে যান। তাঁর যুক্তি, এই চালককে হতে হবে সম্পূর্ণ "প্রকৃত" (pure actuality) — তার মধ্যে কোনো অবাস্তবায়িত সম্ভাবনা থাকতে পারবে না, কারণ থাকলে তাকেও আবার কেউ বাস্তবায়িত করতে হতো, আর তখন শৃঙ্খলটা আরও এক ধাপ পেছনে চলে যেত। তাই এটা হতে হবে অপরিবর্তনীয়, বস্তুহীন (immaterial, কারণ বস্তুর ধর্মই হলো পরিবর্তনের সম্ভাবনা বহন করা), এবং চিরন্তন। সবচেয়ে কাব্যিক অংশটা এখানে — অ্যারিস্টটল বলেন, এই অচল চালক মহাবিশ্বকে নড়ায় "ধাক্কা দিয়ে" নয়, বরং "প্রেমের বস্তু হিসেবে" (as an object of desire/love)। যেমন একজন মানুষ কোনো আদর্শ বা সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজের ইচ্ছায় এগিয়ে যায়, শারীরিকভাবে ধাক্কা না পেয়েও — ঠিক তেমনই পুরো মহাবিশ্ব এই পরম পূর্ণতার দিকে আকৃষ্ট হয়ে চলমান থাকে। এই চালক নিজে শুধু নিজের কথাই চিন্তা করে — "চিন্তা যা নিজেকেই চিন্তা করে" (thought thinking itself), কারণ তার চিন্তার যোগ্য সবচেয়ে পূর্ণ বিষয় তো সে নিজেই।
এই যুক্তি কতটা প্রভাবশালী হয়েছিল, তা বোঝা যায় এই থেকে যে শত শত বছর পরে থমাস অ্যাকুইনাস তাঁর বিখ্যাত "পাঁচ পথ"-এর প্রথম পথে এটাকেই ভিত্তি করে নেন, যদিও তিনি "প্রেমের বস্তু" ধারণাটা বদলে একজন সক্রিয়, সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যান। সম্ভাবনা-প্রকৃতি কাঠামোটা পরবর্তী দুই হাজার বছরের পশ্চিমা দর্শনে পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা-কাঠামো হয়ে থাকে।
এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপত্তিগুলোর দিকে। সবচেয়ে বেশি শোনা আপত্তিটা আসে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান থেকে। নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বলে, কোনো বস্তু যদি একবার সরল রেখায় সমবেগে চলতে থাকে, তাহলে তাকে চলমান রাখার জন্য আর কোনো বাহ্যিক শক্তির দরকার নেই — এটাকে বলে "জড়তা" (inertia)। তাহলে কি এটা অ্যারিস্টটলের কথাকে ভুল প্রমাণ করে না, যে "যা নড়ে তা অন্য কিছু দ্বারা নড়ে"? অনেক আধুনিক সমালোচক এটাকেই সবচেয়ে বড় আপত্তি বলে মনে করেন। এর জবাবে দার্শনিক এডওয়ার্ড ফেজারের মতো অ্যারিস্টটলপন্থীরা বলেন, জড়তার সূত্র আসলে ব্যাখ্যা করে না কেন একটা বস্তু সমবেগে চলমান থাকার অবস্থাতেই থাকে — এটা শুধু বর্ণনা করে যে থাকে। আর যদি সমবেগে চলাটাকে সত্যিকারের "পরিবর্তন" বলে ধরা হয়, তাহলে তার একটা ব্যাখ্যা দরকারই থেকে যায়; আর যদি এটাকে এক ধরনের স্থিতি বা অবস্থা বলে ধরা হয় (পরিবর্তন নয়), তাহলে অ্যারিস্টটলের যুক্তি তাতে প্রয়োগই হয় না, বরং প্রযোজ্য হয় ত্বরণ বা বেগ-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, যেখানে এখনও একটা বাহ্যিক কারণ লাগে। সমালোচকরা পাল্টা বলেন, এই জবাবটা কিছুটা কথার কারসাজি মনে হতে পারে — মূল বিষয়টা হলো, মাঝযুগীয় পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা যে গতি বজায় রাখতে সক্রিয় কারণ লাগে, সেটা অনেকাংশে ভুল প্রমাণিত হয়েছে, আর তাই পুরো যুক্তিটার ভৌত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, যতই রূপান্তরিত করে বাঁচানোর চেষ্টা করা হোক।
দ্বিতীয় আপত্তিটা দার্শনিক উইলিয়াম প্রায়রের মতো সমালোচকদের কাছ থেকে আসে, এবং এটা অ্যারিস্টটলের নিজের কাঠামোর ভেতরের একটা টানাপোড়েন নিয়ে। অ্যারিস্টটল বলেন, জগতের প্রায় সবকিছুর মধ্যে সম্ভাব্যতা ও প্রকৃতভাব — দুটোই মিশে থাকে। কিন্তু অচল চালককে তিনি বলেন সম্পূর্ণ "প্রকৃত", কোনো সম্ভাব্যতা ছাড়াই। প্রশ্ন ওঠে — এমন একটা সত্তা, যার মধ্যে কোনো অব্যবহৃত সম্ভাবনা নেই, সে কি কিছু করতে পারে আদৌ? যদি সে ইতিমধ্যেই পূর্ণ, তাহলে নতুন কিছু করার, নতুন কিছু জানার, বা জগতের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পর্কিত হওয়ার মতো কোনো "অবকাশ" তার মধ্যে থাকে কী করে? আর যদি এই চালক শুধু নিজের কথাই চিন্তা করে, যেমন অ্যারিস্টটল বলেছেন, তাহলে সে জগৎ সম্পর্কে জানেই না, জগৎকে পরিচালনাও করে না — তাহলে এটা ধর্মীয় অর্থে "ঈশ্বর" বলতে আমরা যা বুঝি, তার থেকে অনেক দূরের একটা ধারণা হয়ে যায়।
তৃতীয় আপত্তিটা আসে যুক্তির কাঠামো থেকেই। দার্শনিক অ্যান্থনি কেনি সহ অনেকে প্রশ্ন তোলেন — এমনকি যদি মেনেও নেওয়া হয় যে একটা "স্বভাবগত ক্রম" অসীম হতে পারে না, এবং কোথাও একটা অচল উৎস থাকতেই হবে, তাহলে কি তা থেকে প্রমাণিত হয় যে সেই উৎস "অচল" থেকে "অচলনীয়" (unmovable, অর্থাৎ নড়ানোই অসম্ভব এমন) পর্যায়ে চলে যায়? একটা জিনিস এই নির্দিষ্ট মুহূর্তে না নড়লেও, ভবিষ্যতে নড়তে পারার সম্ভাবনা তো থাকতেই পারে। এছাড়া কেনি উদাহরণ দেন, অ্যারিস্টটল নিজেই কিছু জায়গায় মানুষকে "স্ব-চালক" (self-mover) বলে স্বীকার করেন — তাহলে কেন ধরে নিতে হবে যে চালকের শৃঙ্খলের শেষে একটাই, একক, মহাজাগতিক সত্তা থাকবে, একাধিক স্বাধীন উৎস নয়?
চতুর্থ একটা সূক্ষ্ম আপত্তি আসে চূড়ান্ত কারণ (final cause) ধারণাটা নিয়ে। প্রায়র যুক্তি দেন, একজন কাঠমিস্ত্রি যখন একটা বাড়ির নকশা কল্পনা করে কাজ শুরু করেন, তখন সেই "কল্পিত বাড়ি"টা তাঁর কাজের একটা ব্যাখ্যা দেয়, যদিও বাড়িটা তখনও বাস্তবে নেই। তাহলে কেন অচল চালককে সত্যিই বাস্তবে, প্রকৃত অবস্থায়, থাকতে হবে মহাবিশ্বের গতির ব্যাখ্যা হওয়ার জন্য? হয়তো এটা শুধু একটা আদর্শ লক্ষ্যবিন্দু হিসেবেই কাজ করতে পারে, সত্যিকারের অস্তিত্ব ছাড়াই। অ্যারিস্টটলপন্থীরা এর জবাবে বলেন, এই তুলনাটা পুরোপুরি মেলে না, কারণ মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে আমরা একটা মানুষের মতো কল্পনাশক্তিসম্পন্ন প্রাণীর কথা বলছি না, বরং পুরো বাস্তবতার মৌলিক গঠন নিয়ে কথা বলছি — কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন এই জবাবটা পুরো প্রশ্নটাকেই এড়িয়ে যায়, সরাসরি উত্তর দেয় না।
তাহলে শেষ পর্যন্ত আমরা কোথায় দাঁড়াই? অ্যারিস্টটলের যুক্তিটা একটা গভীর, সহজাত অন্তর্দৃষ্টি থেকে শুরু হয় — কোনো কিছুর ক্ষমতা যদি সবটাই ধার করা হয়, তাহলে কোথাও না কোথাও এমন একটা উৎস থাকতেই হবে যার ক্ষমতা ধার করা নয়, নিজের। প্রশ্নটা হলো, আমাদের চেনা জগতে, সত্যিই এমন "ধার করা ক্ষমতার শৃঙ্খল" আছে কি না, আর থাকলেও, সেই শৃঙ্খলের তলানিতে যা আছে, তা কি সত্যিই অ্যারিস্টটলের বর্ণনা করা পরম, চিন্তাশীল, প্রেমের-বস্তু সত্তা, নাকি স্রেফ পদার্থবিজ্ঞানের কিছু মৌলিক নিয়ম, যার আর কোনো গভীর ব্যাখ্যার দরকার নেই? পরের বার যখন আপনি কোনো কিছুকে নড়তে দেখবেন — একটা পাখা ঘুরছে, একটা গাড়ি চলছে, এমনকি আপনার নিজের চিন্তাটাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরে যাচ্ছে — একটু থেমে ভাবুন, এই ছোট্ট নড়াচড়াটার পেছনে ধার করা শক্তির কতটা দীর্ঘ একটা শৃঙ্খল আছে, এবং সেই শৃঙ্খলটা আসলে কোথায় শেষ হয়। কমেন্টে জানান, আপনার কাছে কোনটা বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হয় — একটা তলানি-ভিত্তি থাকতেই হবে, নাকি শৃঙ্খলটা কোনো ভিত্তি ছাড়াই ঝুলে থাকতে পারে?


